জামুড়িয়া: হঠাৎ যেন ম্যাজিকের মতো। শনিবার রাতের খোলা মুখ খনির বিস্ফোরণের জেরে রবিবার সাতসকালে দেখা গেল বর্ষায় ফুলে ফেঁপে ওঠা আস্ত একটি পুকুর নিমেষেই জলশূন্য। ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জামুড়িয়ার কেন্দার খেপা ডাঙ্গা মাঝি পাড়া এলাকায়।
কী ঘটেছে?
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কেন্দার খেপা ডাঙ্গা মাঝি পাড়ায় অবস্থিত সুবিশাল পুকুরটি এলাকার হাজারো মানুষের নিত্যদিনের ভরসা। পানীয় ছাড়াও পুজো-অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে দৈনন্দিন সব কাজে এই পুকুর ব্যবহার করেন বাসিন্দারা।
কিন্তু শনিবার রাতে কেন্দা এলাকায় অবস্থিত খোলা মুখ খনিতে বিস্ফোরণের পর পুকুরের একাংশের পাড় ভেঙে পড়ে। ফলস্বরূপ রবিবার ভোরে উঠে স্থানীয়রা দেখেন পুকুরের সব জল নেমে গেছে। খবর ছড়াতেই এলাকায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
“আজ পুকুর, কাল ঘরবাড়ি” – গ্রামবাসীদের অভিযোগ
ঘটনার জন্য সরাসরি ECL কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছেন স্থানীয়রা।
শ্যাম দাস আসানসোল
স্থানীয় বাসিন্দা বিপদতারণ ভট্টাচার্য ও কৃষ্ণ মুর্মু বলেন,
“এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জলকষ্ট। এই পুকুরের জল দিয়েই কেন্দার বড় অংশের মানুষের দৈনন্দিন চাহিদা মিটত। এখন বিস্ফোরণের জেরে বাঁধ ভেঙে পুকুর জলশূন্য। আমরা চাই ECL অবিলম্বে এটি মেরামত করুক অথবা বিকল্প জলের ব্যবস্থা করুক।”
গ্রামবাসীদের আরও অভিযোগ, “আজ পুকুরের বাঁধ ভেঙেছে, কাল ঘরবাড়িও ভেঙে যেতে পারে। ব্লাস্টিং-এর তীব্রতা কমানোর জন্য বহুবার ECL কর্তৃপক্ষকে বলেছি। কিন্তু তারা আমাদের কথায় কর্ণপাত করেনি।”
এখনও নীরব খনি কর্তৃপক্ষ
একদিকে তীব্র জলকষ্ট, অন্যদিকে ক্রমাগত বিস্ফোরণের আতঙ্কে দিন কাটছে কেন্দার মানুষের। তবে এই ঘটনায় খনি কর্তৃপক্ষের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
