কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর দলীয় ভাঙনের আবহে এবার প্রথমবার পৃথকভাবে ২১ জুলাই শহিদ দিবস পালন করল তৃণমূল কংগ্রেসের দুই শিবির। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট তৃণমূল বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে সমাবেশ করে। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবির শহরের অন্য প্রান্তে পৃথক কর্মসূচির আয়োজন করে। ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সমাবেশের আগের রাতে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে তৈরি হওয়া প্রধান মঞ্চে ভাঙচুর ও সাউন্ড সিস্টেম নষ্ট করার অভিযোগ ওঠে। কালীঘাট তৃণমূলের দাবি, গভীর রাতে দুষ্কৃতীরা মঞ্চে হামলা চালিয়ে অনুষ্ঠান ব্যাহত করার চেষ্টা করে। ঘটনার পর রাত পর্যন্ত দলীয় নেতৃত্ব মঞ্চে অবস্থান করেন। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। দলত্যাগীদেরও কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন তিনি। একই সঙ্গে আগামী দিনে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সংগঠনকে শক্তিশালী করতে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁর ভাষণে বিজেপি এবং প্রশাসনের একাংশকে নিশানা করেন। দলত্যাগী নেতাদের প্রসঙ্গে কড়া অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে তাঁদের দলে ফিরিয়ে না নেওয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করেন তিনি।
সমাবেশ চলাকালীন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে মঞ্চে সাময়িক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে দলীয় নেতৃত্ব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
অন্যদিকে বিদ্রোহী শিবিরের সভা থেকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ শানানো হয় কালীঘাট তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। প্রবীণ নেতা মদন মিত্র ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক ইস্যু তুলে ধরে নেতৃত্বের সমালোচনা করেন এবং একাধিক প্রশ্ন তোলেন।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, জনসমাগমের নিরিখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট তৃণমূলের সমাবেশে তুলনামূলকভাবে বেশি মানুষের উপস্থিতি ছিল। তবে দুই পক্ষই নিজেদের কর্মসূচিকে সফল বলে দাবি করেছে।
#WestBengal #Kolkata #PoliticalNews #BreakingNews #NewsUpdate
