দুর্গাপুর : পশ্চিম বর্ধমান জেলার শিল্পনগরী দুর্গাপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য জয় পেয়েছেন ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ও প্রাক্তন মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদারকে ৩০ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত করে প্রথমবার এই কেন্দ্রের বিধায়ক নির্বাচিত হন। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে পরিচিত এই আসনে ফলাফল রাজ্য রাজনীতিতেও বিশেষ তাৎপর্য তৈরি করেছে।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ অনুষ্ঠিত ভোটে চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় ১ লক্ষ ৮ হাজার ৮৮৮টি ভোট পান। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী প্রদীপ মজুমদার পান ৭৭ হাজার ৯৫৪টি ভোট। ফলে ৩০ হাজার ৯৩৪ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন বিজেপি প্রার্থী। গণনার শুরুতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও পরবর্তী পর্যায়ে ব্যবধান ক্রমশ বাড়তে থাকে।
চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়স ৪৭ বছর। তিনি বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ বারজোড়া কলেজ থেকে ২০০০ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পেশায় ব্যবসায়ী হলেও দীর্ঘদিন ধরে দুর্গাপুর পূর্ব অঞ্চলে সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
দুর্গাপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্র একসময় বামফ্রন্টের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। পরে তৃণমূল কংগ্রেস এই আসনে নিজেদের প্রভাব প্রতিষ্ঠা করে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে সেই রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিয়ে বিজেপির দখলে আসে এই কেন্দ্র।
নির্বাচনী প্রচারে চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া স্থানীয় উন্নয়ন, শিল্পাঞ্চলের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বিষয়েও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।
নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে চলতি সম্পদ প্রায় ৭৯ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা এবং অচল সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা। হলফনামায় প্রায় ২২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকার দায়দেনার কথাও উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলেও হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দুর্গাপুর পূর্বের এই ফলাফল বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন। শিল্প ও খনি অঞ্চল হিসেবে পরিচিত এই কেন্দ্রের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং নাগরিক পরিষেবার উন্নয়নে নতুন বিধায়কের ভূমিকার দিকে এখন নজর রয়েছে সাধারণ মানুষের।
দুর্গাপুর পূর্বের মানুষের প্রত্যাশা, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলির বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিল্পাঞ্চলের উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং নাগরিক পরিষেবার মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবেন নবনির্বাচিত বিধায়ক।
#দুর্গাপুরপূর্ব #চন্দ্রশেখরবন্দ্যোপাধ্যায় #পশ্চিমবঙ্গরাজনীতি #বিধানসভানির্বাচন২০২৬ #দুর্গাপুর
