বিশেষ প্রতিবেদন : ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম সম্মানিত অভিনেতা ভিক্টর ব্যানার্জি। বাংলা, হিন্দি ও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় দক্ষতা তাঁকে বিশ্বজোড়া পরিচিতি এনে দিয়েছে। সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্র থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক প্রযোজনায় তাঁর উপস্থিতি ভারতীয় অভিনয়শিল্পের গৌরবকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। দীর্ঘ কর্মজীবনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পদ্মভূষণ সম্মানেও ভূষিত হয়েছেন।
তবে তাঁর জীবনের একটি রাজনৈতিক অধ্যায় রয়েছে, যা আজকের প্রজন্মের অনেকের কাছেই অজানা।
১৯৯১ সালে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। রাজ্যে তখন বামফ্রন্টের শক্তিশালী আধিপত্য। রাজনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক পরিসরে বামপন্থী প্রভাব ছিল অত্যন্ত দৃঢ়। সেই সময় উত্তর-পশ্চিম কলকাতা লোকসভা কেন্দ্র থেকে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামেন ভিক্টর ব্যানার্জি।
বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সেই সময়ের তুলনা করলে পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি ছিল সীমিত। দলীয় কর্মী, সমর্থক এবং প্রচার ব্যবস্থাও ছিল তুলনামূলকভাবে ছোট পরিসরে। এমন এক সময়ে একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অভিনেতার বিজেপির প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
নির্বাচনী প্রচারের সময় বড় জনসমাবেশ বা বিপুল কর্মীবাহিনীর সুযোগ ছিল না। সীমিত পরিসরেই প্রচার চালাতে হয়েছিল। তবুও ভিক্টর ব্যানার্জি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসেননি। তিনি নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নেন এবং ভোটারদের কাছে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন।
নির্বাচনের ফল তাঁর পক্ষে না গেলেও তিনি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট অর্জন করেছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সেই নির্বাচনে তাঁর প্রার্থিতা ছিল একটি প্রতীকী ঘটনা, যা পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক বিস্তারের প্রাথমিক অধ্যায়গুলির মধ্যে অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হয়।
পরবর্তী সময়েও ভিক্টর ব্যানার্জি বিভিন্ন জাতীয় ও সামাজিক বিষয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন। সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে তিনি বারবার বক্তব্য রেখেছেন।
শুধু অভিনয় বা রাজনীতি নয়, সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। চলচ্চিত্র জগতের কর্মীদের অধিকার রক্ষা, সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্ন এবং বিভিন্ন গণআন্দোলনের প্রতি সমর্থন—সব ক্ষেত্রেই তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।
বহু দশক পেরিয়ে গেলেও ১৯৯১ সালের সেই অধ্যায় এখনও রাজনৈতিক ইতিহাসের আলোচনায় ফিরে আসে। কারণ, এমন এক সময়ে তিনি সেই রাজনৈতিক পথ বেছে নিয়েছিলেন, যখন সেই সিদ্ধান্তকে অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করতেন। তাই ভিক্টর ব্যানার্জির রাজনৈতিক যাত্রা শুধুমাত্র একটি নির্বাচনের গল্প নয়, বরং একটি সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতা, ব্যক্তিগত বিশ্বাস এবং সাহসী অবস্থানেরও দলিল।
