দেবের পঞ্চাশতম ছবি 'বাইক অ্যাম্বুলেন্স দাদা' — এক অসাধারণ মানুষের জীবন রুপোলি পর্দায়


 কলকাতা, ৬ জুন — টলিউডের মেগাস্টার দেব-এর ক্যারিয়ারে এটি নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তাঁর পঞ্চাশতম চলচ্চিত্র হিসেবে আসছে 'BAD: Bike Ambulance Dada' — উত্তরবঙ্গের এক সাধারণ চা-বাগান কর্মী থেকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করিমুল হকের অবিশ্বাস্য জীবনের গল্প। আগামী ১৪ আগস্ট, ভারতের স্বাধীনতা দিবসে মুক্তি পাবে এই ছবি।

গত বছর ২৫ ডিসেম্বর, নিজের জন্মদিনে, সামাজিক মাধ্যমে ছবির ফার্স্ট লুক পোস্টার প্রকাশ করে দেব ঘোষণা করেছিলেন এই প্রকল্পের কথা। পোস্টারে দেখা যায় দেব একটি মোটরসাইকেলে বসে আছেন এবং অভিনেতা পার্থসারথি চক্রবর্তী স্যালাইনের বোতল ধরে রয়েছেন। সেই শক্তিশালী ছবিই বলে দেয় ছবির গভীরতা।

করিমুল হক — যাঁর গল্প পর্দায় আসছে

জলপাইগুড়ির ধলাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা করিমুল হক একসময় ছিলেন একজন সাধারণ চা-বাগান শ্রমিক। ১৯৯৫ সালে তাঁর মায়ের মৃত্যু তাঁকে চিরতরে বদলে দেয়। সময়মতো অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় মায়ের প্রাণ বাঁচানো যায়নি। সেই বেদনা থেকেই জন্ম নেয় তাঁর সংকল্প। নিজের মোটরসাইকেলকেই তিনি পরিণত করেন বিনামূল্যের অ্যাম্বুলেন্সে। দুর্গম পাহাড়ি পথে, গভীর রাতে, বন্যার জলে — কোনো বাধাই তাঁকে থামাতে পারেনি। হাজার হাজার মানুষের জীবন বাঁচিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন উত্তরবঙ্গের 'বাইক অ্যাম্বুলেন্স দাদা'। এই অসাধারণ কর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করেছে।

দেব ও পরিচালক বিনয় মুদগিলের ভাবনা

ছবিটি পরিচালনা করছেন বিনয় মুদগিল, যিনি প্রবীণ চলচ্চিত্রকার সূরজ বড়জাত্যার সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরেই করিমুল হকের জীবন নিয়ে ছবি করার স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি। ২০২৬ সালের শুরুতে শ্যুটিং শুরু হয়েছে এই ছবির। দেব বলেছেন, এই ছবিতে তিনি নায়কের চকচকে চেহারা ছেড়ে এক সাধারণ মানুষের মধ্যে লুকিয়ে থাকা অসাধারণ মহত্ত্বকে তুলে আনতে চান।

ছবিতে দেবের বিপরীতে অভিনয় করছেন রুক্মিণী মৈত্র। মার্চ মাসে তাঁর চরিত্রের নাম 'অঞ্জু' বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। 'Dev Entertainment Ventures' এবং 'Nandy Movies' যৌথভাবে প্রযোজনা করছে এই ছবিটি।

স্বাধীনতা দিবসে মুক্তি — একটি প্রতীকী নির্বাচন

১৪ আগস্ট মুক্তির দিন নির্বাচন নিছক কাকতালীয় নয়। করিমুল হকের মতো একজন মানুষের গল্প — যিনি কোনো সরকারি সাহায্য ছাড়াই শুধু নিজের সংকল্প ও মোটরসাইকেলটিকে সম্বল করে মানুষের জীবন বাঁচিয়ে চলেছেন — সেই গল্প বলার জন্য ভারতের স্বাধীনতা দিবস যেন আদর্শ পটভূমি। নির্মাতারা মনে করছেন এই দিনটি ছবির বার্তার সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়।

টলিউড শিল্পের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বাংলা চলচ্চিত্র যেভাবে সত্যিকারের মানবিক গল্পের দিকে ঝুঁকছে — 'গোলন্দাজ', 'বাঘা জতিন', 'খাদান'-এর পর এই ছবিটিও সেই ধারাকেই এগিয়ে নিয়ে যাবে। দেবের পঞ্চাশতম ছবি হিসেবে এই নির্বাচন শুধু ক্যারিয়ারের মাইলফলক নয়, এটি একটি সচেতন শিল্পী-সত্তার প্রকাশ।


Written By

Author

রিপাবলিকান মিরর (Republican Mirror) একটি শীর্ষস্থানীয় আধুনিক জনপ্রিয় নিউজ প্ল্যাটফর্ম।

Sponsored
Insert AdSense HTML Here

আরো খবর

Sponsored (300x250)