দক্ষিণ ২৪ পরগনা: জয়নগরে ১১ বছরের এক স্কুলপড়ুয়া শিশুর উপর নৃশংস নির্যাতনের অভিযোগে মূল অভিযুক্তসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তদন্তে নামে পুলিশ। তবে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি জয়নগর থানার ধোষা চন্দনেশ্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব চন্দনেশ্বর এলাকায় ঘটেছে। অভিযোগ, পঞ্চম শ্রেণির এক ১১ বছরের ছাত্র স্থানীয় কয়েকজন শিশুর সঙ্গে খেলাধুলা করছিল। সেই সময় একটি লাঠি অসাবধানতাবশত স্থানীয় বাসিন্দা তপন হালদারের গায়ে লাগে বলে অভিযোগ।
এরপর অভিযুক্ত ক্ষিপ্ত হয়ে শিশুটিকে ধরে নিয়ে গিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেছে পরিবারের সদস্যরা। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শিশুটিকে অভিযুক্তের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। ঘটনার সময় অভিযুক্তের পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এই ঘটনায় জয়নগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। অভিযোগের পর অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
তদন্তের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে শুক্রবার গভীর রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান বারুইপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার অরবিন্দ কুমার আনন্দ। তাঁর তত্ত্বাবধানে জয়নগর থানার আইসি সুব্রত মালাকার এবং তদন্তকারী দল গোপন সূত্রের ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালায়।
পুলিশের দাবি, কুলতলি থানা এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত তপন হালদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁর ভাই স্বপন হালদার এবং পুত্র শুভ হালদারকে। ধৃতদের রবিবার বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিচার এখনও আদালতে হয়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলি প্রমাণিত বলে গণ্য করা যাবে না।

